সম্ভাব্য ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো

টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যয় চট্টগ্রামের কৃষি খাতে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। জেলার ১৮টি উপজেলা ও মহানগর এলাকায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা এবং গ্রীষ্মকালীন সবজিসহ ১৫ হাজার ৯১১ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না থাকলেও কৃষি বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত উৎপাদন ও বাজারদর অনুযায়ী প্রাথমিক বিশ্লেষণে ৩২০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে খাত অনুযায়ী ক্ষতি পরিমাণ আউশ ধান প্রায় ১০০-১২০ কোটি টাকা, গ্রীষ্মকালীন সবজি প্রায় ২০০-২৫০ কোটি টাকা, আমনের বীজতলা ও পুনঃরোপণ ব্যয় প্রায় ১৫-৩০ কোটি টাকা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সবজি ও আউশ ধানের চাষিরা, আর নতুন করে আমনের বীজতলা তৈরির অতিরিক্ত ব্যয়ও কৃষকদের ওপর বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে পুনরায় জরিপ করে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ১১ জুলাইয়ের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টির ফলে জেলার মোট ৯ হাজার ৪৩ দশমিক ৫ হেক্টর আউশ ধান, ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রাথমিক হিসাবে ১৫ হাজার ৯১১ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, আউশ ধানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, মীরসরাই ও সাতকানিয়া উপজেলায়। এর মধ্যে চন্দনাইশে প্রায় পুরো আউশ আবাদই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁশখালীতে ২ হাজার ৩২০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর এবং সাতকানিয়ায় ৯২০ হেক্টর আউশ ধান ক্ষতির তালিকায় রয়েছে।

আমনের বীজতলার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ফটিকছড়ি, লোহাগাড়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়া। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমনের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বীজতলার এই ক্ষতি ভবিষ্যৎ ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক কৃষককে নতুন করে বীজতলা প্রস্তুত করতে হতে পারে, এতে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষয়ক্ষতিও উদ্বেগজনক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও পটিয়ায়। শুধু বাঁশখালীতেই ১ হাজার ২৫০ হেক্টর এবং ফটিকছড়িতে ৯২৪ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৭৬১ হেক্টর এবং চন্দনাইশে ৮৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার ফসলি জমিতে পানি জমে থাকায় ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ক্ষেতেই জমি থেকে পানি নামতে না পারায় গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সবজি চাষিরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি কেবল একটি প্রাথমিক হিসাব। বৃষ্টিপাত সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে বিস্তারিত পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়েও সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, ১৭টি উপজেলার বন্যায় আক্রান্ত হলেও ৫টি উপজেলায় (বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, সীতাকু-) বন্যায় বেশি নিমজ্জিত ও আক্রান্ত হয়েছে। ১২২,৬৮৫টি কৃষি পরিবার বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে চূড়ান্ত ক্ষতির রিপোর্ট পাওয়া যাবে।