টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং হালদা নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন মির্জাপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উপজেলার মোট ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্যে মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মির্জাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করা হবে।

হালদার জোয়ার ও টানা বৃষ্টিতে হাটহাজারীতে জলাবদ্ধতা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশ্রয় নিতে আসা ব্যক্তিদের শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘীরপাড় এলাকায় তীব্র পানির স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। হাটহাজারী পৌরসভার কামালপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হালদা নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় নদীর পূর্ব তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ কারণে প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়া, গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়া এবং দুর্যোগ-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।