নরেন্দ্র মোদির গত এক দশকের শাসনামলে আসাম, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটে উচ্ছেদ অভিযানের নামে ছোট-বড় কয়েক হাজার স্থানীয় মসজিদ, মাদরাসা-মকতব ও পীর-দরগাহ, আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দিল্লির শতাব্দী প্রাচীন আখুন্দজি মসজিদ থেকে শুরু করে জ্ঞানবাপী ও মথুরার মতো বড় ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোও আইনি মারপ্যাঁচে পড়েছে। কারণ, এই উচ্ছেদগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ধর্মীয় তালিকা ধরে করা হয় না; বরং স্থানীয় প্রশাসন ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ’, ‘বনের জমি অবমুক্তকরণ’ বা ‘পৌরসভার রাস্তা সম্প্রসারণ’-এর মতো প্রশাসনিক অজুহাত দেখিয়ে এই অভিযানগুলো চালায়। তবে ভারতের মুসলিম রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের আইনি সেলের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনি মারপ্যাঁচে এবং ‘বুলডোজার নীতি’র দোহাই দিয়ে একের পর এক প্রাচীন মসজিদ ও মুসলমানদের জমি দখল করার এক ভয়ংকর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইনি মারপ্যাঁচে গত দেড় মাসের ব্যবধানে ২৩টিরও বেশি ঐতিহাসিক ও স্থানীয় মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ এবং প্রাচীন দরগাহ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির তুর্কমান গেটের সৈয়দ ফয়েজ এলাহী মসজিদ, রাজস্থানের জয়সলমীর, বারমের ও বিকানেরের স্থানীয় মসজিদ এবং উত্তরাখণ্ড ও মহারাষ্ট্রের প্রাচীন দরগাহগুলো এই ধ্বংসযজ্ঞের শিকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থার জন্য এক ‘চরম বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দিয়েছে। গত এক দশকে, বিশেষ করে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের মুসলমানদের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকারের গ্রাফ ক্রমাগত নিচের দিকে নেমেছে। ভারতের প্রখ্যাত মুসলিম সংগঠনগুলোর জোট জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, জামায়াতে ইসলামী হিন্দ এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে এই পরিস্থিতিকে দেশের জন্য একটি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অথচ ভারতের আইনের স্থিতাবস্থা (সেকশন ৪) ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতার দিন একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের চরিত্র ঠিক যেমন ছিল, ভবিষ্যতে তা অবিকল বজায় থাকবে। মসজিদকে মন্দির বা মন্দিরকে মসজিদে রূপান্তর করা আইনত অসম্ভব।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী, মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা (মব লিঞ্চিং) করা হয়েছে। দাদরি থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান বা উত্তরপ্রদেশে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন শত শত নিরীহ মুসলমান। মাঠপর্যায়ে এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হামলার পরও আইনি দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে এক ধরনের অঘোষিত ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে মুসলমানদের নামায আদায়ে বাধা ও হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)-এর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিশ্ব দরবারে এর রেটিং কমিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

‘গো-রক্ষা’র নামে মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যা: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ভারতের ডাটা জার্নালিজম সংস্থাগুলোররিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত ভারতে গো-রক্ষার নামে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দল, আরএসএস এবং শিবসেনার কর্মীদের হাতে কমপক্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগের বেশিই নিরীহ মুসলিম যুবক। দাদরির মোহাম্মদ আখলাক, রাজস্থানের পেহলু খান বা ঝাড়খণ্ডের মজলুম আনসারির মতো ঘটনাগুলো এর আন্তর্জাতিক প্রমাণ। একই সময়ে গরু রক্ষা বা অন্যান্য ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলায় নির্যাতনে আহত ও পঙ্গু হয়েছেন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন মুসলমান। তবে মাঠপর্যায়ের মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, প্রকৃত আহতের সংখ্যা এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি, কারণ উগ্রপন্থীদের সামাজিক ও আইনি ভীতি এবং স্থানীয় পুলিশের বৈরি আচরণের কারণে গ্রামীণ এলাকার বহু মুসলিম পরিবার থানায় মামলা বা হাসপাতালে আহত হওয়ার আনুষ্ঠানিক বিবরণ নথিভুক্ত করতে সাহস পায় না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল অপরাধীরা রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক পরোক্ষ সুরক্ষায় পার পেয়ে যাচ্ছে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ আইনি কাঠামোকে নিষ্ণিয় করে এক ভয়ংকর বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছে।

‘বুলডোজার জাস্টিস’ ও আইনি উচ্ছেদ: ভারতের সংবিধান ও দণ্ডবিধিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং উপাসনালয় সুরক্ষার চমৎকার বাণী লিখিত রয়েছে। এমনকি ১৯৯১ সালের একটি বিশেষ আইন অনুযায়ী দেশটিতে ১৯৪৭ সালের পর কোনো মসজিদের চরিত্র বদল করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আদালতের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে অতি দ্রুত মুসলিম উপাসনালয় ও সম্পত্তি ধ্বংসের জন্য ‘বুলডোজার’ একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ৮ জানুয়ারি ২০২৬ দিল্লির তুর্কমান গেটের সৈয়দ ফয়েজ এলাহী মসজিদ থেকে শুরু করে রাজস্থানের জয়সলমীর, বারমের, বিকানের এবং উত্তরাখণ্ড ও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ‘বুলডোজার জাস্টিস’-এর বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী রায় দিয়ে জানায় যে, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ঘরবাড়ি বা ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে বাস্তব চিত্র হলো, স্থানীয় প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর নীতি এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই ‘পৌরসভার নিয়ম লঙ্ঘন’ বা ‘অবৈধ খাস জমি’ অবমুক্তকরণের প্রশাসনিক অজুহাত দেখিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে।

নতুন আতঙ্ক: পাস হওয়া ওয়াকফ সংশোধনী আইন (২০২৫): ভারতে মুসলিমদের দান করা ঐতিহাসিক মসজিদ, ঈদগাহ এবং কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে ‘ওয়াকফ বোর্ড’ রয়েছে, তার স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিতে ২০২৪ সালের আগস্টে লোকসভায় একটি বিতর্কিত বিল উত্থাপন করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (এপ্রিল ২০২৫) এই ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হয়। এই নতুন আইনের ফলে ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর মুসলিম বোর্ডের একক ক্ষমতা খর্ব করে জেলা কালেক্টর বা ম্যাজিস্ট্রেটকে (উগ) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্র এখন সম্পূর্ণ আইনি পথেই যেকোনো বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তি বা প্রাচীন মসজিদের জমিকে ‘সরকারি খাস জমি’ হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা পেয়ে গেছে।

অনুচ্ছেদ ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতা) আইনে বলা আছে, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম বিশ্বাস করার, তা পালন করার এবং প্রচার করার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। অনুচ্ছেদ ২৬ ও ৩০: এই ধারাগুলোর অধীনে মুসলিম সমাজ তাদের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি নিজেদের ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার বিশেষ অধিকার পায়। সাবেক আইপিসি ধারা ২৯৫: কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা তাদের অবমাননা করতে কোনো উপাসনালয় (মসজিদ) ধ্বংস করা, ক্ষতিসাধন করা বা অপবিত্র করা একটি অত্যন্ত গুরুতর ও অ-জামিনযোগ্য অপরাধ।

হিন্দু পক্ষের আইনজীবীদের প্রধান কৌশল হলো, তারা আদালতে দাবি করছেন যে তারা কোনো মসজিদের চরিত্র “রূপান্তর” করতে চাচ্ছেন না (যা ১৯৯১ সালের আইনে নিষিদ্ধ)। বরং তারা দাবি করছেন, “স্থাপনাটির ভেতরে আগে থেকেই লুকিয়ে থাকা সনাতন ধর্মীয় প্রতীক রয়েছে। আমরা কেবল আদালতের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখতে চাই যে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্থাপনাটির ‘প্রকৃত ধর্মীয় চরিত্র’ কী ছিল।” বারাণসী জেলা আদালত ও এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই যুক্তি আমলে নিয়ে জ্ঞানবাপী মসজিদে ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ কে দিয়ে বৈজ্ঞানিক জরিপ ও খননকাজের অনুমতি দিয়েছে, যা মুসলিম সমাজের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

নিপীড়নের মুখে দেশত্যাগ ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির এবং পুশ-ইনের শিকার হচ্ছে মুসলমানরা; বিজেপির এই এক দশক মেয়াদি উগ্র হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা এবং আরএসএসের মতাদর্শিক বাস্তবায়নের চাপে ভারতের অভ্যন্তরীণ মুসলিম সমাজ এক চরম মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সরকারি ও বেসরকারি কোনো সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ না করা হলেও, ভারতের মুসলিম অধিকার রক্ষা আন্দোলন কর্মীদের মতে; উগ্রবাদীদের এই নির্যাতনের শিকার হয়ে এবং নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে হাজার হাজার প্রান্তিক ভারতীয় মুসলমান সীমান্ত পেরিয়ে কিংবা বৈধ-অবৈধ পথে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকার দরিদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর এই চাপ সবচেয়ে বেশি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ২০২৬ সালের জুনের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অনেক বাংলাভাষী মুসলিমকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশব্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।

ভারতের মুসলিম অধিকার রক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং দিল্লির সংখ্যালঘু কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. জাফরুল ইসলাম খান এবং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, “আজ যে মসজিদ ও মাদরাসাগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে, এগুলো সেই প্রতিষ্ঠান যারা ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম জিহাদের ফতোয়া দিয়েছিল। আজ স্বাধীনতার সেই বীর সেনানীদের উত্তরসূরিদের উগ্র সাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমে প্রান্তিক করে ফেলা হচ্ছে। যদি আদালতকে বাদ দিয়ে বুলডোজার দিয়ে বিচার করা হয়, তবে দেশে আইনের শাসন বলে আর কিছু থাকে না।”

বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, ভারতের এই অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং মুসলিম নিধন প্রক্রিয়া সরাসরি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় আঘাত হানছে। ভারত যখন তার দেশের বৈধ মুসলিম নাগরিকদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে পুশব্যাকের চেষ্টা করে, তখন তা দুই দেশের বন্ধুত্বের দেওয়ালে বড় ধরনের ফাটল ধরায়।

বাংলাদেশ ও ভারত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিকাল স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মো: সাহাবুল হক বলেন, ভারতের মুসলমানদের ওপর নেমে আসা এই পরিকল্পিত ধর্মীয় ও কাঠামোগত নির্যাতন কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক মানবতার সংকট। ভারতের আইনের বইতে মুসলমানদের অধিকার ও মসজিদের নিরাপত্তা চমৎকারভাবে লেখা থাকলেও, বর্তমানে উগ্র রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং বিচার ব্যবস্থার একাংশের বিতর্কিত ব্যাখ্যার কারণে সেই আইনগুলো মুসলিম সমাজকে মাঠপর্যায়ে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইতিহাসকে প্রতিশোধের হাতিয়ার না বানিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট) যদি ১৯৯১ সালের আইনের মূল চেতনাকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করে, তবে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।