শুধু আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে গত ২০ জুলাই দিল্লিীতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এর তদন্ত চেয়ে করা বেশ কিছু আবেদনের শুনানিতে এমন মন্তব্য করে দেশটির শীর্ষ আদালত।

শুনানিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, সংবিধানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে গত ২০ জুলাই ভারতের সংসদ অভিমুখে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের মিছিলের সময় কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করা হয়।

ভারতের শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘সংবিধানে শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত প্রতিবাদের অধিকার সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত। যতক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত শুধু আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ করা যাবে না।’ সূত্র: এনডিটিভি, বিবিসি

নতুন আত্মবিশ্বাস, নতুন আশঙ্কা

গুয়াহাটির ২৯ বছর বয়সি চিত্রনাট্যকার স্বরাজ প্রিয় বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন করেও কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই আন্দোলন তাকে নতুন করে আশাবাদী করেছে।

তার ভাষায়, “এই আন্দোলন প্রশ্ন করার এবং ভিন্নমত প্রকাশের জায়গা আবার ফিরিয়ে এনেছে।”

দেশজুড়ে আন্দোলনের বিভিন্ন স্থানে এখন একটিই স্লোগান দেখা যাচ্ছে- “ধর্মেন্দ্র প্রধান ছিল শুধু উদাহরণ, এবার মোদির পালা।”

তবে আশাবাদের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।

পাটনার ৩০ বছর বয়সি গবেষক ও ছাত্রনেত্রী বরুণী পূর্বা মনে করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রমাণ করেছে যে, জনআন্দোলনের মাধ্যমে মোদি সরকারকেও নতি স্বীকার করতে বাধ্য করা সম্ভব।

তবে তিনি আশঙ্কা করছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকার প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

ইতোমধ্যে সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। পুলিশের দাবি, শতাধিক আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং ৪০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে, মোদি সরকারের সময়ে ভারতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইন ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য-সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে।

তবুও বরুণী পূর্বার বিশ্বাস, এই আন্দোলন ভারতের তরুণদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।

তার ভাষায়, “তরুণদের ক্ষোভের মূল কারণগুলো এখনও রয়ে গেছে। তাই সরকারের পক্ষে আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া সহজ হবে না।”

দিল্লীর একটি আন্দোলনস্থলের দেয়ালে লেখা একটি স্লোগান যেন এই প্রজন্মের মনোভাবই তুলে ধরে- “আমাদের চাকরি নেই। এই লেখা মুছে ফেললেও আমরা আগামীকাল আবার ফিরে আসব।”