থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে পানামা পতাকাবাহী কনটেইনার ফিডার জাহাজ এম.ভি. সিলয়েড আর্ক ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে জাহাজের বাংলাদেশী মাস্টার ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদ অস্থায়ী মুক্তি পেয়েছেন।
এর মাধ্যমে জাহাজটির ১৬ জন বাংলাদেশী নাবিকই এখন সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর প্রায় সাড়ে চার মাস থাইল্যান্ডে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি থাকার পর গত ১৮ জুন থাই আদালতের আদেশে অস্থায়ী মুক্তি পান ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদ। পরদিন ১৯ জুন তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে একই জাহাজের সকল বাংলাদেশী নাবিকের আইনি জটিলতা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
জানা যায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক জাহাজ মালিকানাধীন এম.ভি. সিলয়েড আর্ক ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে জাহাজটি হঠাৎ একদিকে মারাত্মকভাবে কাত হয়ে পড়ে এবং পরে ৭ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলের অদূরে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর থাই কোস্টগার্ড দ্রুত অভিযান চালিয়ে জাহাজে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশী নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদে স্থলে নিয়ে আসে।
ঘটনার পর থাই কর্তৃপক্ষ, জাহাজের বীমা কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যৌথ তদন্ত শুরু করে। এ সময় জাহাজের সব নাবিকই তদন্ত কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা করেন। ৩০ মার্চ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারি সার্ভেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল জাহাজের ১৫ জন নাবিক আইনি প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি পান এবং ৩০ এপ্রিল তারা বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে মিলিত হন। তবে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদ তখনও থাইল্যান্ডে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
জাহাজ ডুবির ঘটনাটি মাস্টার বা নাবিকদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটেছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে মতামত রয়েছে। তবে একজন নাবিককে তার প্রত্যক্ষ দায়িত্বের বাইরে সংঘটিত দুর্ঘটনার জন্য দীর্ঘ সময় আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াই, আইনজীবীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জাহাজ মালিক প্রতিষ্ঠান সি লয়েড শিপিং প্রাইভেট লিমিটেড, বীমা কোম্পানি ওয়েস্ট ইংল্যান্ড-এর নিযুক্ত অ্যাডমিরালটি আইনজীবী এবং চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নাফ মেরিন সার্ভিস-এর সক্রিয় ভূমিকার ফলে থাই আদালত ১৮ জুন ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদকে অস্থায়ী মুক্তি প্রদান করেন।
এর ফলে আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান এবং পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে তার অসুস্থ মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলিত হন। ১৯ জুন তিনি দেশে পৌঁছে দীর্ঘ সাড়ে চার মাস পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন।
দেশে ফিরে ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদ বলেন, “এম.ভি. সিলয়েড আর্ক-এর দুর্ভাগ্যজনক ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর সাড়ে চার মাস পর মুক্তি পাওয়ায় আমি আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি।”