গাজীপুরের টঙ্গীর কলাবাগান এলাকায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মামলার কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর মিলগেইট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই সকাল ১০টার দিকে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে শিশুটিকে চিপস খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত বিপ্লব নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্তকে আটক করলেও প্রভাবশালী একটি মহলের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকে ও তার মেয়েকে গভীর রাত পর্যন্ত থানায় রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, 'একজন শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য ঘটনার পরও যদি মামলা নিতে দেরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? পুলিশ আমাকে আসামির অবস্থান জানাতে বলছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা তো পুলিশের দায়িত্ব।'

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

অবরোধে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি তদন্ত বলেন, 'আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গাফিলতি নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।'

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পরিবেশ সবকিছু শান্ত রয়েছে।