বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে ব্যতিক্রমধর্মী মাদকবিরোধী সাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের টঙ্গী মডেল শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভোরের টঙ্গীর রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে মাদকবিরোধী নানা স্লোগানে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে ফজরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা সাইকেল নিয়ে টঙ্গীস্থ তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা মাঠে সমবেত হন। সকাল ৬টায় সেখান থেকে র্যালি শুরু হয়ে বোর্ডবাজার এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পুরো কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, গাজীপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাকির হোসেন, জেলা সভাপতি ইসমাইল পাঠান, টঙ্গী মডেল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও তা'মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি মঈনুল ইসলাম এবং জিএস মুর্তুজা হাসান ফুয়াদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, 'একটি নগর শুধু অবকাঠামো দিয়ে গড়ে ওঠে না; একটি নগরের প্রাণ হলো তার মানুষ। তাই গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, মানবিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে হলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।'
তিনি বলেন, 'মাদক যুবসমাজের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয় এবং পরিবার ও সমাজকে অস্থির করে তোলে। শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, টঙ্গীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই হবে না,এর পেছনের মূল হোতা, অর্থায়নকারী ও সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক শরীফ মাহমুদ বলেন, 'মাদক আজ সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পরিবার, শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।'
তিনি কুমিল্লায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগে কোনো ধরনের বাধা বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
টঙ্গী মডেল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মঈনুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে তরুণদের সম্পৃক্ত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে ছাত্রশিবির কাজ করে যাবে।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।