লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ ও নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে ইরান।
আজ শনিবার (২০ জুন) দেশটির শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স' এই ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত দেশটির খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ড বিশ্বাসের চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার শামিল। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ ও আগ্রাসনের জবাবে এটি তাদের প্রথম পদক্ষেপ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার না করা এবং সেখানকার সাধারণ মানুষের ওপর অব্যাহত হামলা এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
ইরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে যদি এই ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তবে শত্রুপক্ষকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য করতে সামনে আরও কঠোর ও বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে, এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট নিরসনে আগামী ২১ জুন সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, তাদের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য তেহরান থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথ বন্ধের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এবং অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা; এই দুই পরিস্থিতির মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।