মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি শান্তি সমঝোতা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উভয়েই জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য আবারও উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও জানান, উভয় পক্ষ একটি শান্তি কাঠামোতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন এবং পরবর্তী ধাপে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হতে পারে।

তবে ইরান এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোলেও রোববারই চুক্তি স্বাক্ষর হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ইসরায়েল পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জানা গেছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা সীমিত করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে তেল আবিব।

তবে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর নিশ্চয়তা পাওয়ার আগেই ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পেয়ে যেতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের কিছু বন্দরকে ঘিরে থাকা নৌ-নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া তেহরানের ওপর আরোপিত কয়েকটি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা বিদেশে স্থানান্তরে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে তেহরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাবে না বা ধ্বংস করবে না; বরং নিজ দেশে সংরক্ষণ করে এর সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর পথ অনুসরণ করবে।

ফলে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও চূড়ান্ত চুক্তির আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনও বাকি রয়েছে।