দীর্ঘদিন আয়নাঘরে বন্দী থাকা বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম বলেছেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবারদের জন্য পুনর্বাসন এবং তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হয়নি। গুম কমিশনের জন্যও কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। তিনি ভূক্তভোগী পরিবারকে পুর্নবাসনের জন্য বরাদ্দ ঘোষণার দাবি জানান।
এদিকে প্রস্তাবিত বাজেট জুলাইকে ধারনে করেনি উল্লেখ করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আইয়ূবী বলেছেন, আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশার হলো, এই বাজেট জুলাইকে ধারণ করেনি। এই বাজেট আমার অলিউল্লাহ মোকাদ্দেস ভাইয়ের গুম হওয়া সন্তানের কান্নার খবর রাখেনি। গুম কমিশনের জন্যে এই বাজেটে একটি টাকা বরাদ্দ রাখেনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।
দীর্ঘদিন আয়নাঘরে বন্দি থাকা বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম বলেছেন, সম্মানিত অর্থমন্ত্রী যখন বাজেট পেশ করছিলেন তখন আমি দম বন্ধ করে অপেক্ষায় ছিলাম যে হয়তো এখনই গুমের ভুক্তভোগী পরিবারদের জন্য পুনর্বাসন এবং তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা উনি দিবেন। কিন্তু আমি হতাশ হলাম যে সেই ঘোষণা উনার কাছ থেকে আমি শুনলাম না। এই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যারা তাদের সন্তানের জন্য অপেক্ষায় আছে, যে বোনগুলো তাদের স্বামীর অপেক্ষায় আছে, যে সন্তানগুলো তাদের পিতার অপেক্ষায় আছে, হয়তো অনেককে আমরা কোনদিন আর ফিরে পাবো না। কিন্তু এই পরিবারগুলোকে আর কতদিন আমরা অপেক্ষায় রাখবো? এখনো অর্থমন্ত্রীর এই ক্ষমতা রয়েছে এই সেশনেই উনি এই সংসদেই উনি ভাষণ বাজেট দিয়ে ঘোষণা দিয়ে দিতে পারেন এই ভুক্তভোগী পরিবারদের পুনর্বাসনের জন্য। আমি তা ঘোষণা দেওয়ার জোর আবেদন জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন গুম কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশন আরও শক্তিশালী করে উনি পুনর্বহাল করবেন। কিন্তু এই বাজেটে গুম কমিশন এবং মানবাধিকার মানবাধিকার কমিশনের জন্য কোনো বরাদ্দ আমি দেখতে পাচ্ছি না। যদি তাদের অর্থ ও বরাদ্দ না দেওয়া হয় তাহলে তারা জনগণের অধিকার কীভাবে রক্ষা করবেন? আমি এই দুই কমিশনের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, দাবি জানাচ্ছি।
তিনি প্রবাসীদের বিষয়ে বলেন, এই সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল মিলে আমাদের প্রবাসী কর্মীদের জন্য, রেমিটেন্স যোদ্ধা ও বীরদের জন্য সেবা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে পারলাম না। আমরা যদি তাদের জন্য বাজেট বরাদ্দ না দেই, বিভিন্ন মিশনে যদি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ না করি, তাহলে আমাদের তাদের সেবা আমরা কীভাবে উন্নত করব? আমি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে যেন সংসদে বাজেট এনে আমাদের রেমিটেন্স বীরদের জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় যাতে সেইসব মিশন থেকে তাদের অ্যাডভান্স কেয়ার এবং অ্যাডভান্স সার্ভিস আমরা দিতে পারি।
তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলেন, আমরা সবাই জানি জাতিসংঘের সাধারণ সভায় প্রেসিডেন্সি এখন বাংলাদেশের হাতে। জাতিসংঘের শরণার্থী সভার নির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্সিও এখন বাংলাদেশের হাতে। এই দুটো গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশ আসীন রয়েছে। এইটি একটি মোক্ষম সময় রোহিঙ্গা সমস্যার একটি সমাধান এবং ক্লাইমেট চেঞ্জের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ তহবিল আহ্বান করার জন্য। কিন্তু বাজেটে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ দেখলাম না। এই অর্থ, যেভাবে আমাদের নোমান ভাই বলেছেন, যে এটা খরচ নয়, এটা বিনিয়োগ। আমরা এইখানে যে অর্থ বিনিয়োগ করব তার শতগুণ বৃদ্ধি হয়ে তহবিল আকারে আমাদের কাছে আসবে। কিন্তু সেই বরাদ্দ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবিলম্বে পিআর ফার্ম এনগেজ করা দরকার, বিভিন্ন ক্যাপিটালে লবিস্ট ফার্মও নিয়োগ করা দরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে, ক্লাইমেট ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তহবিল আনার জন্য। এই বাজেটে যদি সেই ব্যবস্থা না রাখা হয় তাহলে এই কাজগুলো কীভাবে করবে? তিনি পরিশেষে সকল যুবকদেরকে দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
ঋণনির্ভর প্রস্তাবিত বাজেট ‘গরিব হয়রানির’: সংসদে সালাউদ্দিন আইয়ুবী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে কেবল ‘গরিব মারা’ নয়, বরং ‘গরিব হয়রানির বাজেট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই বাজেট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেনি এবং শহীদ পরিবারের কান্নার খবর রাখেনি।
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, প্রায় পৌনে তিন লক্ষ কোটি টাকা ঋণনির্ভর যে বাজেট পেশ করা হয়েছে, তা দেখে অনেকে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। আমি আশ্চর্য হইনি। কারণ যারা নিজেরা ঋণনির্ভর, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপিÑতারা ঋণনির্ভর বাজেটই দেবে, এটাই স্বাভাবিক।”
বাজেট ঘোষণার আগেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাজেট পেশের আগেই ১৪টি ভোগ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। পরিবহন ভাড়া সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মানুষ আশা করেছিল বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমবে, কিন্তু এই বাজেট তাদের হতাশ করেছে।”
খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর কর আরোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বাজেট কমানোর প্রসঙ্গ টেনে সালাউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, “গত বছর দুদকের বরাদ্দ ছিল ২০৩ কোটি টাকা, এবার তা কমিয়ে ১৯৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে মূলত দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। মেগা প্রকল্পের আড়ালে এখন মেগা দুর্নীতি চলছে। এমনকি স্কুল ফিডিং ও খাল খনন প্রকল্পেও ক্যালকুলেটর চেপে ১০-১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়া হচ্ছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অত্যন্ত হতাশার কথা হলো, এই বাজেট জুলাইকে ধারণ করেনি। জুলাই কমিশনের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ রাখা হয়নি। শহীদ পরিবারের কান্নার খবর এই বাজেটে নেই।”
বাজেট বাস্তবায়নে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “ঋণ নিয়ে বড় বাজেট দিলেই উন্নয়ন হয় না। দুর্নীতি কমিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক ও যাকাতভিত্তিক ইসলামের আদলে যদি ব্যয় করা যায়, তবে কম বাজেটেও দেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি বলেন, আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশার হলো, এই বাজেট জুলাইকে ধারণ করেনি। এই বাজেট আমার অলিউল্লাহ মোকাদ্দেস ভাইয়ের গুম হওয়া সন্তানের কান্নার খবর রাখেনি। গুম কমিশনের জন্যে এই বাজেটে একটি টাকা বরাদ্দ রাখেনি। আমি সর্বশেষ বলতে চাইÑমাথায় অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় চড়া যায় না। স্বপ্ন দেখা যায়, পৌঁছা যায় না। সমুদ্রের জলরাশি অনেক বেশি কিন্তু কোন পিপাসার্ত মানুষের পিপাসা মেটাতে পারে না। কিন্তু সামান্য কূপের পানি শত শত বছর ধরে হাজার হাজার মানুষের পিপাসা মিটাতে পারে। সুতরাং বাজেট বড় হলেই চলবে না, ঋণ নিয়ে কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার মধ্যে বাজেট নয়। দুর্নীতি কমিয়ে, সুশাসন নিশ্চিত করে, ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফভিত্তিক, জাকাতভিত্তিক ইসলামের আদলে যদি খরচ করা যায়, কম বাজেটেই বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।
চারমাসের মধ্যে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধে ফেলেছে- আখতার
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন রংপুর-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, এই সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণের সময় ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু এই কয়েক মাসেই সেই ঋণের পরিমাণ আরও এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বেড়ে এখন ২৪ লাখ কোটি টাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মাত্র চার মাসের মধ্যে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধে ফেলেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আজ আমরা এখানে ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আলোচনার জন্য বসেছি। ঠিক এই সময়টাতে আমাদের অর্থনীতির বর্তমান কী হাল, সেটা আমাদের একটু দেখে নেওয়া প্রয়োজন। আমরা যদি বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সময়কালটা খেয়াল করি, তাহলে দেখতে পাই একটি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেই শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশ থেকে ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা। এত বিশাল পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি এখন একটি শূন্য বা খালি পাত্রের মতো হয়ে গেছে, যেখানে কোনও টাকা-পয়সা নেই। এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন আমরা দেখি দেশের ঋণের পরিমাণ কতটা বেড়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, এই সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু এই কয়েক মাসেই সেই ঋণের পরিমাণ আরও ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি বেড়ে এখন ২৪ লাখ কোটি টাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মাত্র চার মাসের মধ্যে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধে ফেলেছে।
দু’জন সংসদ সদস্য এখনও শপথ নিতে পারেননি
খেলাপি ঋণের কথা উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, খেলাপি ঋণের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের লাখ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হিসেবে আটকে আছে। এমনকি পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এই সংসদের দুজন সংসদ সদস্য এখনও শপথ নিতে পারেননি, কারণ তারা আদালতে এই খেলাপি ঋণের ইস্যু নিয়ে আটকে আছেন। অথচ এখনো পর্যন্ত সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই খেলাপি ঋণের বিষয়টি আমাদের অর্থনীতিকে একটি পঙ্গু অবস্থায় নিয়ে গেছে।
মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি:
আখতার হোসেন বলেন, মুদ্রাস্ফীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি এখন দুই অঙ্কের ঘরেÑপ্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারও মাত্র ৪ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। এমন একটি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি দল দাবি করছে, বাজেট ঘোষণার পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাজেট ঘোষণার আগেই সরকার এই তিন মাসের মধ্যে দুই দফায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। আর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব যেমন পরিবহন খাতে পড়ে, তেমনি উৎপাদনের খরচ বাড়িয়ে সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিল।
আওয়ামী লীগের গুম, খুন, হত্যাকে যারা
বৈধতা দিয়েছে, তাদের খুঁটির জোর কোথায়?
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমরা দেখেছি এই মামলা, মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডার দ্য টেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায়, সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ, যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম, খুন, হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে, তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটা আমরা জানতে চাই।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করছিলেন।
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হইছে। এখন যারা পাচার করেছে, তারা সদর্পে এখন হচ্ছে, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এই দেশে এখন বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে, আমরা দেখেছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। আমরা দেখেছি আনভীর দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সুবহানের পুত্র, এই ধর্ষক দেশে ঢুকেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমরা দেখেছি এই মামলা, মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডার দ্য টেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায়, সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ, যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম, খুন, হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে, তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটা আমরা জানতে চাই। কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে, যেই মিডিয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত।
তিনি বলেন, প্রাচীন ভারতের একটা প্রবাদ আছে। সেই প্রবাদেও একজন বলেছিলেন যে, ঋণ করে প্রয়োজনে ঘি খাও, তাইলেও সুখে থাকো। ঋণ করো, ঘি খাও। পরের ধনে, পরের ধনে পোদ্দারি করো। ঋণ করে ঘি খেয়ে জমিদারি করো, তাও ঋণ করো। আমার কাছে মনে হচ্ছে এই প্রবাদটিকে সরকারি দলের কিছু সদস্য খুব সিরিয়াসলিই নিয়েছেন। নিয়ে উনারা ঋণ করো, ঘি খাও, তাও সুখে থাকো, এটাকে উনারা এভাবে নিয়েছেন, ঋণ করো, ঋণখেলাপি হও, তাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করো।