ভারতের নিট-ইউজি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল ও অনিয়মের দায়ে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করানো বা বরখাস্তের দাবিতে মোদী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির হুঁশিয়ারি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনের চেয়েও বড় পরিসরে দেশব্যাপী কর্মসূচি দেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে সিজেপির নেতারা এ ঘোষণা দেন। সরকারের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। অন্যদিকে সিজেপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে সিজেপি জানায়, তারা সরকারের কাছে লিখিতভাবে তিনটি প্রধান দাবি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফা এজেন্ডা তুলে ধরেছে। প্রধান দাবিগুলো হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে অপসারণ, প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে নতুন মামলা না করার নিশ্চয়তা। সিজেপির দাবি, সরকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারী সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবি পূরণ না হলে শিক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচ দফা এজেন্ডা নিয়ে আর কোনো আলোচনা এগোবে না। ইন্ডিয়া টুডে,

‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে কোনো আপস নয়’

নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা সরকারকে তাকে বরখাস্ত করতে হবে- এই দাবিতে অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

গতকাল শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে।

বৈঠকের আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আবারও স্পষ্ট করে বলেন, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলনের কোনো সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি এই আন্দোলনের সমাধান চায়, তাহলে একমাত্র পথ হলো ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।’

সিজেপির দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় শিক্ষামন্ত্রীর ওপর বর্তায়। তাই তাকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা সরকারকে তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এবং তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্নফাঁস রোধে সংশোধনী আইন অনুমোদন পাচ্ছে মোদির মন্ত্রিসভায়

নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণার একদিন পর সরকার পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এ সংশোধন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন পাওয়ার কথা।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর অন্যতম দিক হলো প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন। এসব আদালতকে তিন মাসের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করে রায় দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নতুন সংশোধনীতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও আর্থিক জরিমানা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

বর্তমান আইনে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য অপরাধের তথ্য গোপন করলে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১ কোটি রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে বর্তমানে পাঁচ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ কোটি রুপি জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে আগামী সোমবার লোকসভায় সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হতে পারে।

এর আগে বুধবার লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত ১০ বছরে দেশে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও একটিতেও দোষীদের সাজা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাই গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।’

তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অন্তত ২২ লাখ শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হওয়ার জন্য দ্রুত পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। মোদি আরও বলেন, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় আলোচনা শেষে বিলটি চূড়ান্ত করা হবে এবং সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব তা পাসের চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

লোকসভার বক্তব্যের সুযোগ পেলেন না রাহুল

ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা পঞ্চম দিনের মতো অচল হয়ে পড়েছে লোকসভার কার্যক্রম। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব ছিল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। অন্যদিকে সরকার বলেছে, বিতর্ক এড়াতে শর্ত জুড়ে দেওয়া দেশের জন্য ভুল বার্তা বহন করবে।

দিনের প্রথম দফার মুলতবি শেষে লোকসভার অধিবেশন শুরু হলে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সরকার শুরু থেকেই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের অনেক সদস্যই আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী। তাই রাহুল গান্ধীর উচিত নিজের দলের সদস্যদের আলোচনায় অংশ নিতে রাজি করানো। রিজিজু বলেন, আলোচনার আগে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা কিংবা অজুহাত দেখিয়ে বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া দেশের মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা হওয়াই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অংশ।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে মামলা পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ অনশনের পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে বিরোধীরা সরকারের এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীকে আগে পদত্যাগ করতে হবে। এরপরই সংসদে আলোচনা হতে পারে।

অধিবেশন চলাকালে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখতে চাইলে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী জগদম্বিকা পাল জানান, মন্ত্রীরা সংসদের প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপনের পর তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত অধিবেশন সোমবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ফলে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য আর শোনা যায়নি। গত পাঁচ দিন ধরেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভে লোকসভার কার্যক্রম বারবার স্থগিত হচ্ছে। ফলে আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর আগে দিনের শুরুতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আগামী রোববার পালিত হতে যাওয়া কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদ সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কিন্তু তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই বিরোধী সদস্যরা আবারও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান শুরু করেন।

স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন, সংসদের নিয়মানুযায়ী প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস তিনি আগেই দিয়েছেন। তবুও বিরোধীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় শুক্রবারও কার্যত কোনো কাজ ছাড়াই লোকসভার অধিবেশন শেষ হয়। প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের এই অচলাবস্থা কবে কাটবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সরকার কঠোর আইন আনার প্রস্তুতির কথা জানালেও বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে একচুলও সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে আগামী সপ্তাহেও সংসদে একই ধরনের উত্তেজনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভারতে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর বার্তা সর্বোচ্চ আদালতের

ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনামূলক বার্তা দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। আদালত জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার বাস্তবায়নের ওপর তারা নজর রাখবে। একই সঙ্গে বছরের পর বছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনার প্রবণতারও সমালোচনা করেছে আদালত।

মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, প্রশ্নফাঁস রোধে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্যায় থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখন আর সাময়িক সমাধানের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা আর না ঘটে।

আদালত আরও জানান, আগামী বছর থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে সরকারকে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা চালুর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, পরীক্ষার্থীদের তথ্য এবং পুরো ডিজিটাল অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে। তুষার মেহতা আদালতকে বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজন হলে আরও অনেক বেশি উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। শিশু ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা ও তদারকির মধ্যেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, আন্দোলন এবং আইনি লড়াই শুরু হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও কেন্দ্র সরকার দাবি করেছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা কঠোর করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর শাস্তির বিধান করলেই প্রশ্নফাঁস বন্ধ হবে না। পরীক্ষা প্রস্তুতি, প্রশ্ন সংরক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান, পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই আধুনিক ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নিরীক্ষা এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষণও জরুরি।

সর্বোচ্চ আদালতের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আদালত শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলার কথা বলেনি, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকনির্দেশনাও দিয়েছে। এখন সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং সেগুলোর কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলের।